বহুব্রীহি সমাস
সমস্যমান পদগুলোর কোনটিকে না বুঝিয়ে সমস্তপদে অন্যকোন শব্দকে বোঝানো হলে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি শব্দটির অর্থ বহুধান।
যেমন- ঊন (দুর্বল) পাজর যার = ঊনপাঁজুরে = হতভাগ্য
প্রদত্ত বাক্যটির প্রথম অংশটিকে বোঝানোর জন্য "ঊন পাজর যার" একটি সমস্যামান পদ। এটির অর্থ স্পষ্ট না হলেও, বাক্যের অন্য অংশগুলোতে একটি বৈশিষ্ট্য ব্যক্ত করে যা "ঊনপাঁজুরে" নামে বোঝানো হয়েছে। এই পদটি বহুব্রীহি সমাসের একটি উদাহরণ। বহুব্রীহি শব্দের অর্থ হল বহুধান, অর্থাৎ এটি যে বহু অনেক জিনিস নির্দেশ করে।
বহুব্রীহি সমাস কত প্রকার
বহুব্রীহি সমাস সম্পর্কে ৮ প্রকার রয়েছে। তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ বাংলা বানান নিম্নে দেয়া হলো:
1. সমানাধিকরণ: এটি সমাস প্রকারের একটি, যা দুটি শব্দের মধ্যে সমান বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত ধারণা বোধ করায়।
2. ব্যাধিকরণ: ব্যাধিকরণ সমাসে এক শব্দকে অন্য শব্দের ব্যাধিত অবস্থায় রূপান্তর করে।
3. ব্যাতিহার: এটি সমাসের একটি প্রকার, যা একটি শব্দের ব্যাতিহীন সংজ্ঞা বোধ করায় এবং অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে মোট অর্থ গঠন করে।
4. নঞ্চ: এটি সমাসের একটি প্রকার, যা প্রথম শব্দটির সাথে দ্বিতীয় শব্দের অভাব অথবা বিপরীতার্থক ব্যতিরেকের মধ্যে যুক্ত হয়।
5. মধ্যপদলোপী: এটি সমাসের একটি প্রকার, যা দুটি শব্দের মধ্যে একটি মধ্যপদ যুক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে মোট অর্থ গঠন করে।
6. প্রত্যয়ান্ত: প্রত্যয়ান্ত সমাস হলো একটি প্রকার যেখানে দুটি শব্দের মধ্যে একটি প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে মোট অর্থ গঠন করা হয়।
7. অলুক: এটি সমাসের একটি প্রকার, যেখানে প্রথম শব্দটির সাথে দ্বিতীয় শব্দের একটি অলুক যুক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে মোট অর্থ গঠন করা হয়।
8. সংখ্যাবচক বহুব্রীহি: সংখ্যাবচক বহুব্রীহি একটি প্রকার যেখানে একটি সংখ্যা বা সংখ্যার প্রতিশব্দ একটি শব্দের সাথে যুক্ত হয় এবং মোট অর্থ গঠন করে।
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
যখন পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় তখন সেই সমাসটিকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি বলে।উদাহরণ- নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
যখন পূর্বপদ এবং পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনও কখনও ক্রিয়া বিশেষ্য) হয়, তখন সেই সমাসটিকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি বলে।উদাহরণ- বীনা পানিতে সার = বীনাপানি
ব্যতিহার বহুব্রীহি
যখন ক্রিয়ার মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন তৈরি হয়, তখন সেই সমাসটিকে ব্যতিহার বহুব্রীহি বলে। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হয়।উদাহরণ- কোলেতে কোলেতে যে মিলন = কোলাকুলি
নঞ বহুব্রীহি
যখন পূর্বপদে নঞ (না বোধক) অব্যয় যোগ করা হয়, তখন সেই সমাসটিকে নঞ বহুব্রীহি বলে। নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।উদাহরণ- বে (নেই) তার যার = বেতার।
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
যখন সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তখন সেই সমাসটিকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।উদাহরণ- মীনের মত অক্ষি যার = মীনাক্ষী।
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
যখন সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন সেই সমাসটিকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি বলে।উদাহরণ- দুই দিকে টান যার = দোটানা।
অলুক বহুব্রীহি
যখন সমাসের সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তখন সেই সমাসটিকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদটি বিশেষণ হয়।উদাহরণ- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
যখন সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তখন সেই সমাসটিকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলে। এ সমাসে সমস্তপদে আ, ই, বা ঈ যুক্ত হয়।উদাহরণ- সে (তিন) তার যার (যে যন্ত্রের) = সেতার
